ব্যাট করতেন বড় ভাই গ্লেন আর বল করতেন মেজ ভাই ডিন। স্বভাবতই পেছনে
দাড়িয়ে বল ধরার কাজটি করতে হত ছোট ভাই অ্যাডামকে। আর এভাবেই ক্রিকেটের আকাশে উদিত হল
সবথেকে উজ্জ্বল উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যানের তারাটি। অ্যাডাম গিলক্রিস্ট।
বোলারদের জন্য মূর্তিমান আতঙ্ক আর ব্যাটসম্যানের পেছনে দাঁড়ানো
অতন্দ্র প্রহরী। উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যানের নাম বলতে গেলে সবার অটোম্যাটিক পছন্দের ক্রিকেটার
তিনি। আছেন আইসিসি হল অফ ফেমেও। অস্ট্রেলিয়ার তিনটি বিশ্বকাপ জয়ের সাক্ষী অ্যাডাম শুধু
খুনে ব্যাটসম্যানই ছিলেন না; তিনি ছিলেন পুরদস্তুর এক ভদ্রলোক। ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে
শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে আম্পায়ার আউট না দিলেও তিনি নিজে থেকেই প্যাভিলিয়নের
দিকে হাটা শুরু করেন। বিশ্বকাপের মত মঞ্চে এমন সততা দেখাতে হলে বুকের পাটা থাকা লাগে।
যা গিলি অবলীলায় করে দেখিয়েছেন। শুধু নিজে না অন্য ক্রিকেটারদেও উৎসাহ দিয়েছেন আউট
হলে নিজে থেকেই বেরিয়ে আসার। সে স্বীকার করেছে ‘ওয়াকে’র জন্য সতীর্থরাই কখনও কখনও
বিরক্ত হয়েছে। তারপরও সে ‘ওয়াক’ করেছে, দ্বিতীয়বার, তৃতীয়বার,
আরও অনেকবার।
দর্শনের বিষয়টি ভুলে যান। এর বাইরেও গিলক্রিস্টকে নিয়ে কথা বলার
মতো অনেক কিছু আছে। তার ব্যাটসম্যানসিপের লজিক খুবই সোজা। ক্রিকেট বল হল মারার জিনিস
এবং সে জন্য হাতে ব্যাট নামের একটি চমৎকার যন্ত্র থাকে। এটা অনেকেই জানে এবং ব্যাটও
সবার হাতে থাকে। কিন্তু সবাই পারে না, যা গিলক্রিস্ট পারতো। ক্রিকেট ইতিহাসে খুব কম
লোকই ওর মতো বল পেটাতে পেরেছে। টাইমিং ও হ্যান্ড আই কো-অর্ডিনেশন অসাধারণ। বলের লাইনে
খেলতো, সে অর্থে অর্থোডক্স, আবার টেস্ট ইতিহাসে ওর চেয়ে বড় ইম্প্রোভাইজার নেই। শক্তিশালী
ফোরআর্মস, লং হ্যান্ডেল, ন্যানোসেকেন্ডে পা ও শরীরের ওজন ট্রান্সফার করার ক্ষমতা। সঙ্গে
যোগ করুন দুর্দান্ত কাট ও পুল। নিঃসন্দেহে অ্যাডাম গিলক্রিস্ট দুর্দান্ত এক ব্যাটসম্যান।
তার অমন বাচ্চাদের মত হাসি দেখলে কেউ বুঝতেই পারবে না যে এই গিলির জন্যই কত বোলারের
নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়েছে।
পুরো নাম - অ্যাডাম ক্রেইগ গিলক্রিস্ট
ডাক নাম - গিলি, ক্রাঞ্চি
জন্ম - ১৪ নভেম্বর ১৯৭১
উচ্চতা - ৬ ফুট ১ ইঞ্ছি
ব্যাটিং স্টাইল - বাঁহাতি
টেস্ট অভিষেক-৫ নভেম্বর ১৯৯৯
শেষ টেস্ট-২৪ জানুয়ারী ২০০৮
ওয়ানডে অভিষেক-২৫ অক্টোবর ১৯৯৬
শেষ ওয়ানডে-৪ মার্চ ২০০৮
যেসব দলে খেলেছেন - নিউ সাউথ ওয়েলস, ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া, ডেকান
চারজারস, মিডলসেক্স , কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব
টেস্টে ৯৬ ম্যাচ খেলে ৪৭.৬০ গড়ে ৫৫৭০ রান করেছেন । স্ট্রাইক রেট
৮১.৯৫ এবং সর্বোচ্চ রান ২০৪*। ক্যাচ নিয়েছেন ৩৭৯ টি এবং স্ট্যাম্পিং করেছেন ৩৭ টি।
ওয়ানডেতে ২৮৭ ম্যাচ খেলে ৩৫.৮৯ গড়ে ৯৬১৯ রান করেছেন । স্ট্রাইক
রেট ৯৬.৯৪ এবং সর্বোচ্চ রান ১৭২। ক্যাচ নিয়েছেন ৪১৭ টি এবং স্ট্যাম্পিং করেছেন ৫৫ টি।
টি২০ তে ১৩ ম্যাচ খেলে ২২.৬৬ গড়ে ২৭২ রান করেছেন । স্ট্রাইক রেট
১৪১.৬৬ এবং সর্বোচ্চ রান ৪৮। ক্যাচ নিয়েছেন ১৭ টি।
